ইসলামে নারীশিক্ষা হারাম হলে হাসপাতালে গিয়ে কেন মহিলা ডাক্তার খোঁজা হয়?
ইসলামে নারীশিক্ষা হারাম, এই ভিত্তিটাই সঠিক নয়। ইসলাম নারীকে শিক্ষা গ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং প্রয়োজনীয় দ্বীনি ও দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নারী ও পুরুষ উভয়েরই আছে। তাই হাসপাতালে গিয়ে মহিলা ডাক্তার খোঁজার মধ্যে কোনো স্ববিরোধ নেই।
যদি সমাজে মহিলা ডাক্তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নারীদের চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার সুযোগও থাকতে হবে। বিশেষ করে প্রসূতি, স্ত্রীরোগ, শারীরিক পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক নারী স্বাভাবিকভাবেই মহিলা চিকিৎসকের কাছে বেশি স্বস্তি ও গোপনীয়তা অনুভব করেন।
ইসলামি ফিকহে চিকিৎসা একটি প্রয়োজনীয় পেশা। কোনো সমাজে নারীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত মহিলা চিকিৎসক না থাকলে, নারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানুষের চিকিৎসাশিক্ষা গ্রহণ ফরজে কিফায়া পর্যায়েও যেতে পারে। অর্থাৎ সমাজের প্রয়োজন পূরণের জন্য কিছু নারীর ডাক্তার হওয়া প্রয়োজন।
সুতরাং যুক্তিটা হবে:
“নারীশিক্ষা হারাম, কিন্তু মহিলা ডাক্তার চাই” এটি অসংগত অবস্থান।
কিন্তু
“ইসলামে নারীশিক্ষা বৈধ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তাই মহিলা ডাক্তারও প্রয়োজন” → এখানে কোনো বিরোধ নেই।
কেউ যদি সত্যিই দাবি করেন যে নারীর সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা দুনিয়াবি শিক্ষা হারাম, অথচ একই সঙ্গে মহিলা ডাক্তার, নার্স বা শিক্ষিকা দাবি করেন, তাহলে তার অবস্থানে বাস্তব ও যৌক্তিক অসঙ্গতি আছে।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।