নবী সাঃ কেন ইবনু খাতালকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন?
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে ঘটনাটি খুব সংক্ষেপে এসেছে। মক্কা বিজয়ের দিন নবী ﷺ-কে বলা হলো, “ইবনু খাতাল কাবার পর্দা ধরে আছে।” তিনি বললেন, “তাকে হত্যা করো।” কিন্তু এই সহিহ হাদিস দুটিতে কেন তাকে হত্যা করতে বলা হয়েছিল, তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ইবনু খাতাল প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নবী ﷺ তাকে সদকা সংগ্রহের কাজে পাঠান। তার সঙ্গে একজন মুসলিম খাদেম/মাওলা ছিল। এক পর্যায়ে খাবার তৈরি না করার কারণে সে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করে। এরপর ইসলাম ত্যাগ করে মুশরিকদের কাছে ফিরে যায়। তার দুই গায়িকাও নবী ﷺ-কে বিদ্রূপ করে রচিত কবিতা বা ব্যঙ্গগান গাইত। (( Ibn Hisham, Al-sirah Al-nabawiya | السيرة النبوية لإبن هشام ))
ইমাম নববী সহিহ মুসলিমের শরহে বিষয়টি সংক্ষেপে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে আলেমরা বলেছেন ইবনু খাতালের ক্ষেত্রে কয়েকটি অপরাধ একত্র হয়েছিল:
- ইসলাম ত্যাগ বা রিদ্দাহ
- একজন মুসলিম খাদেমকে হত্যা
- নবী ﷺ-কে হিজা বা বিদ্রূপ ও অপমান করা
- তার দুই গায়িকাকে দিয়ে নবী ﷺ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গগান গাওয়ানো। (( إسلام ويب - شرح النووي على مسلم - كتاب الحج - باب جواز دخول مكة بغير إحرام- الجزء رقم9 ))
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ইবন হাজর আল আসকালানী ফাতহুল বারীতে বলেছেন। ইবন খাতালের ক্ষেত্রে একাধিক মৃত্যুদণ্ডযোগ্য কারণ একসঙ্গে উপস্থিত ছিল, তাই শুধু “নবীকে ব্যঙ্গ করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল” এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে টানা যায় না। ইবন হাজর ইবন আবদিল বার থেকে উল্লেখ করেন যে, তাকে সে যে মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল তার কিসাস হিসেবেও হত্যা করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা আছে। খাত্তাবীর বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন যে, নবী ﷺ তাকে তার পূর্বের অপরাধগুলোর জন্য হত্যা করেছিলেন। (( إسلام ويب - فتح الباري شرح صحيح البخاري - كتاب جزاء الصيد - باب دخول الحرم ومكة بغير إحرام- الجزء رقم4 ))
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হলো, মক্কা বিজয়ের সময় সাধারণভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও ইবনু খাতাল সেই সাধারণ নিরাপত্তার আওতায় ছিলেন না। নির্দিষ্ট কয়েকজনকে ব্যতিক্রম করা হয়েছিল। সে কারণে কাবার পর্দা ধরে আশ্রয় নিলেও তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। (( إسلام ويب - شرح النووي على مسلم - كتاب الحج - باب جواز دخول مكة بغير إحرام- الجزء رقم9 ))
সুতরাং সবচেয়ে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হলো: সহিহ বুখারি ও মুসলিম নিশ্চিত করে যে নবী ﷺ ইবনু খাতালকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু সহিহ হাদিসের সেই বর্ণনাটি হত্যার কারণ বলে না। বিস্তারিত কারণ সীরাত ও হাদিসের শরহ থেকে পাওয়া যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে একজন মুসলিমকে হত্যা, ইসলাম ত্যাগ এবং নবী ﷺ-কে বিদ্রূপ করার অভিযোগ একত্রে পাওয়া যায়। তাই “শুধু কবিতা লিখেছিল বা নবীর সমালোচনা করেছিল বলে তাকে হত্যা করা হয়েছিল” বলা ঐতিহাসিক উৎসগুলোর পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। একইভাবে “শুধু মুরতাদ হওয়ার কারণেই হত্যা করা হয়েছিল” বলাও অতিরিক্ত সরলীকরণ।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।