প্রশ্ন
ইসলামের কোনো বিধান এর যৌক্তিকতা জানতে চাইলেই আলেমরা বলে, "আল্লাহর বিধান, এগুলা আমাদের বুঝে আসবে না। যুক্তি ছাড়াই এগুলো মানতে হবে।" তাহলে তো সব ধর্মই সঠিক। কোনো ধর্ম নিয়েই প্রশ্ন করা যাবে না?
অন্যান্য উত্তরসমূহ (1)
উত্তরদাতা: Abdul Mohaimin
আপনি যে আলেমদের জবাবের কথা বলেছেন, সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। ইসলামে বিশ্বাস ও যুক্তির সম্পর্ক অনেক সূক্ষ্ম। বিষয়টি তিনটি স্তরে ব্যাখ্যা করা যায়:
১. ভিত্তি যাচাইয়ের জন্য যুক্তিডুক্ত প্রশ্ন করা:
ইসলাম কখনোই অন্ধ বিশ্বাসের কথা বলে না। কুরআন বারবার চিন্তা-ভাবনা ও যুক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেয়। আল্লাহর অস্তিত্ব, কুরআন যে সত্যিই ঐশী গ্রন্থ, নবী মুহাম্মদ (সা.) যে সত্য নবী—এই মূল ভিত্তিগুলো অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণের ওপর দাঁড় করাতে ইসলাম নির্দেশ দেয়। এই স্তরে প্রশ্ন করা শুধু বৈধই নয়, বরং ঈমানের দাবি। এখানে “বুঝে আসবে না” বললে সেই আলেম ভুল বলেছেন।
২. বিধানের প্রজ্ঞা অনুসন্ধান:
সাধারণ বিধানের পেছনের কারণ বা হিকমাহ (প্রজ্ঞা) খোঁজা ইসলাম উৎসাহিত করে। যেমন, রোজা রাখলে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যাকাতের অর্থনৈতিক দর্শন, মদের অপকারিতা—এসব যুক্তি কুরআন নিজেও দিয়েছে এবং আলেমরাও ব্যাখ্যা করেন। এগুলো জানতে চাওয়াটা জ্ঞানার্জনের অংশ।
৩. সীমারেখা টানা (যেখানে যুক্তি থামে)
এখন মূল প্রশ্নে আসি: আলেমরা কখন বলেন “এর যুক্তি আমাদের বোধগম্য নয়”? তখন, যখন কোনো ইবাদতের পূর্ণাঙ্গ রহস্য বা নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার (যেমন: ফজর ২ রাকাত, মাগরিব ৩ রাকাত কেন?) পেছনের পরম কারণ জানতে চাওয়া হয়। তখন মূল বিষয়টি দাঁড়ায় “আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি”-র ওপর।
যুক্তি এখানে থেমে যায় না, বরং যুক্তিই বলে দেয়: একজন সৃষ্টিকর্তার কিছু বিধান থাকবেই যা তাঁর ইচ্ছাধীন। আপনি যদি আগের ধাপে প্রমাণ করে নেন যে তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়, তাহলে তাঁর কোনো নির্দেশের সম্পূর্ণ রহস্য না বুঝলেও সেটি মেনে নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। যেমন, একজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের রাসায়নিক ব্যাখ্যা পুরোপুরি না বুঝলেও, যেহেতু আপনি জানেন তিনি ডাক্তার, তাই তার পরামর্শ মেনে চলেন। এটা অন্ধবিশ্বাস নয়, আস্থা।
তাহলে আপনার মূল প্রশ্ন: “তাহলে তো সব ধর্মই সঠিক?”
উত্তর: না, কারণ পার্থক্যটা ১ নম্বর স্তর-এ। অন্য ধর্ম কি তাদের মূল ভিত্তি (ঐশীগ্রন্থের সত্যতা, আল্লাহর একত্ব) অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে?
ইসলামের দাবি হলো, তার ভিত্তিই যাচাইযোগ্য ও যুক্তিসিদ্ধ। তাই যখন একজন হিন্দু বলেন “গীতার বিধান অপ্রশ্নবিদ্ধ”, আর একজন মুসলিম বলেন “কুরআনের বিধান অপ্রশ্নবিদ্ধ”, তখন দুজনের দাবির সত্যতা মাপা হবে কার ভিত্তিগ্রন্থ ঈশ্বরের পক্ষ থেকে আসার প্রমাণ কতটা মজবুত, তার ওপরে। “সব ধর্ম সঠিক” তখনই বলা যাবে, যদি সব ধর্মের ভিত্তিই সমানভাবে প্রমাণিত হয়। কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
সংক্ষেপে, ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্দেহ বা অবজ্ঞার নিয়তে প্রশ্ন করা, কিন্তু জানা ও বিশ্বাসকে মজবুত করার জন্য যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহর বিধানকে অন্ধভাবে নয়, বরং সচেতন আস্থার সাথে মানতে বলা হয়েছে।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।