"নবিজি কাবা ঘরের মূর্তি গুলোর বদনাম করতো। আর মক্কা বিজয়ের পরে তাকে নিয়ে কেউ কুটুক্তি করলে তার কল্লা থাকত না।" এই দাবিটি কতটুকু সত্য?
অন্যান্য উত্তরসমূহ (2)
এটি বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা।এই দাবীতে সত্য মিথ্যা মিশে গেছে। নবী ﷺ মূর্তিপূজার ধর্মীয় সমালোচনা করতেন। তিনি বলতেন যে এরা তোমাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করতে পারবে না। তিনি সেগুলোকে বাদ দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদতে মানুষকে ডাকতেন কিন্তু তিনি কখনো সেগুলিকে গালাগাল করেন নি। এমন কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। বরঞ্চ কুরআনে এইসব মূর্তিকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"আর তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তারা আহ্বান করে (উপাসনা করে), তাদেরকে গালি দিও না; তাহলে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে শত্রুতা করে আল্লাহকে গালি দেবে।"
— সূরা আল-আন'আম, ৬:১০৮
আর মক্কা বিজয়ের পর তিনি অধিকাংশ শত্রুকেই সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে শুধু কটূক্তি নয়; যুদ্ধ, রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যার ষড়যন্ত্র বা শত্রুপক্ষকে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগও ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যুদ্ধাপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ বা গণহত্যার দায়ে বিচার হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিষয়টিকে আপনি ৭১ পরবর্তী যুদ্ধপরাধী আইন এর মত করে দেখতে পারেন।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়নি।পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন করা হয়েছে এবং বিচারও হয়েছে।এতে কি বলা যাবে যে,বাংলাদেশে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কাউকে সমালোচনার জন্য হত্যা করা হয়েছে?
নবী (সা.) কী কাফেরদের দেব-দেবীকে গালি দিয়েছেন?
প্রসঙ্গ: এই প্রশ্নটি মূলত সেই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের কাছ থেকে আসে যারা মনে করে যে সব ধর্ম সমান, সব ধর্ম একই রকম, ইত্যাদি ইত্যাদি।
১. আবু তালিবের মৃত্যুশয্যার ঘটনা
আরবি সনদ ও মতন:
حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:
لَمَّا مَرِضَ أَبُو طَالِبٍ، دَخَلَ عَلَيْهِ رَهْطٌ مِنْ قُرَيْشٍ، فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ. فَقَالُوا: إِنَّ ابْنَ أَخِيكَ يَشْتُمُ آلِهَتَنَا وَيَفْعَلُ وَيَفْعَلُ، فَلَوْ بَعَثْتَ إِلَيْهِ فَنَهَيْتَهُ. فَبَعَثَ إِلَيْهِ — أَوْ قَالَ: جَاءَ النَّبِيُّ ﷺ — فَدَخَلَ الْبَيْتَ، وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ أَبِي طَالِبٍ مَجْلِسُ رَجُلٍ.
قَالَ: فَخَشِيَ أَبُو جَهْلٍ إِنْ جَلَسَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى جَنْبِ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يَكُونَ أَرَقَّ لَهُ عَلَيْهِ، فَوَثَبَ فَجَلَسَ فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ، وَلَمْ يَجِدِ النَّبِيُّ ﷺ مَجْلِسًا قُرْبَ عَمِّهِ، فَجَلَسَ عِنْدَ الْبَابِ.
فَقَالَ أَبُو طَالِبٍ: أَيْ ابْنَ أَخِي، مَا بَالُ قَوْمِكَ يَشْكُونَكَ؟ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ تَشْتُمُ آلِهَتَهُمْ وَتَقُولُ...
বাংলা অনুবাদ:
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন আবু তালিব অসুস্থ হলেন, তখন কুরাইশদের একটি দল যাদের মধ্যে আবু জাহলও ছিল তার কাছে এলো। তারা বলল, "আপনার ভাতিজা আমাদের দেবতাদের গালি দেয় এবং এমন-তেমন করে। আপনি যদি তার কাছে লোক পাঠান এবং তাকে বারণ করেন।" তখন আবু তালিব তার কাছে লোক পাঠালেন অথবা তিনি (বর্ণনাকারী) বলেছেন: নবী (সা.) নিজেই আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর এবং আবু তালিবের মাঝখানে ছিল একটি লোকের বসার স্থান।
ইবনে আব্বাস বলেন, আবু জাহল ভয় পেল যে, নবী (সা.) যদি আবু তালিবের পাশে বসেন, তাহলে আবু তালিব তাঁর প্রতি নরম হয়ে যেতে পারেন। তাই সে লাফিয়ে ওঠে এবং সেই স্থানে বসে পড়ল। ফলে নবী (সা.) তাঁর চাচার কাছে বসার কোনো জায়গা পেলেন না, তাই তিনি দরজার কাছে বসলেন।
তখন আবু তালিব বললেন, "আমার ভাতিজা! তোমার সম্প্রদায় তোমার কী অভিযোগ করছে? তারা বলে তুমি তাদের দেবতাদের গালি দাও এবং বলো..."
সনদের অবস্থা:
এই হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। কারণ:
১. "عباد" নামক বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (مجهول)। তাঁর আসল নাম নিয়ে মতভেদ আছে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ বা ইয়াহইয়া ইবনে আম্মারাহ বলে কেউ কেউ বলেন।
২. ইমাম তিরমিজি, ইবনে হিব্বান, হাকিম প্রমুখ এই সনদ বর্ণনা করলেও, হাদিস বিশারদগণ এই সূত্রটিকে দুর্বল বলে গণ্য করেছেন।
লিংক: ج20 - ص365 - كتاب المصنف ابن أبي شيبة ت الشثري - في أذي قريش للنبي ﷺ وما لقي منهم - المكتبة الشاملة
২. দ্বিতীয় বর্ণনা (মুরসাল ও দুর্বল)
আরবি সূত্র: ج12 - ص175 - كتاب تفسير الثعلبي الكشف والبيان عن تفسير القرآن ط دار التفسير - المكتبة الشاملة
বাংলা অনুবাদ:
দ্বিতীয় বর্ণনাটিও মুরসাল (অর্থাৎ সাহাবীকে বাদ দিয়ে তাবিঈ সরাসরি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন)। মুরসাল হাদিসও দুর্বল (ضعيف)।
লিংক: ج12 - ص175 - كتاب تفسير الثعلبي الكشف والبيان عن تفسير القرآن ط دار التفسير - - المكتبة الشاملة
৩. তৃতীয় বর্ণনা (দুর্বল)
আরবি সূত্র: ج3 - ص606 - كتاب تفسير البغوي إحياء التراث - سورة الأحزاب الآيات الى - المكتبة الشاملة
বাংলা অনুবাদ:
তৃতীয় বর্ণনাটিও দুর্বল।
লিংক:
ج3 - ص606 - كتاب تفسير البغوي إحياء التراث - سورة الأحزاب الآيات الى - المكتبة الشاملة
এই ধরণের বেশিরভাগ বর্ননা অপ্রমাণিত ও সনদ দুর্বল।
চতুর্থত, আপনি বললেন, মক্কা বিজয়ের পর কল্লা ফেলে দেওয়া হইছিল বা হইত, সেইক্ষেত্রে এই অভিযোগের রদ্দ হিসাবে আমরা একটি সহীহ হাদিস উপস্থাপন করতে চাই:
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عِيسَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، قَالَ:
لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ، أُصِيبَ مِنَ الْأَنْصَارِ أَرْبَعَةٌ وَسِتُّونَ رَجُلاً، وَمِنَ الْمُهَاجِرِينَ سِتَّةٌ، فِيهِمْ حَمْزَةُ، فَمَثَّلُوا بِهِمْ. فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: لَئِنْ أَصَبْنَا مِنْهُمْ يَوْمًا مِثْلَ هَذَا، لَنُرْبِيَنَّ عَلَيْهِمْ.
قَالَ: فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ، أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ﴾ [النحل: 126]
فَقَالَ رَجُلٌ: لاَ قُرَيْشَ بَعْدَ الْيَوْمِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "كُفُّوا عَنِ الْقَوْمِ إِلاَّ أَرْبَعَةً"
[رواه الترمذي، وقال: حديث حسن غريب من حديث أبي بن كعب]
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
উহুদের যুদ্ধের দিন আনসারদের মধ্যে চৌষট্টি জন এবং মুহাজিরদের মধ্যে ছয় জন শহীদ হন, তাদের মধ্যে হামযা (রা.)-ও ছিলেন। অতঃপর কাফিররা তাদের লাশ বিকৃত করল। তখন আনসাররা বলল, "যদি আমরা কোনোদিন এদের ওপর এরূপ সুযোগ পাই, তবে আমরা তাদের ওপর (প্রতিশোধে) বাড়াবাড়ি করব।"
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন এলো, তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন:
"যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততটুকুই শাস্তি দেবে, যতটা তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, তবে তা ধৈর্যশীলদের জন্য উত্তম।" [সূরা আন-নাহল: ১২৬]
তখন এক ব্যক্তি বলল, "আজকের পর কুরাইশদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা এই সম্প্রদায়কে ক্ষমা করে দাও, তবে চার ব্যক্তি ব্যতীত।"
[সুনান আত-তিরমিজি, তিনি বলেছেন: হাদীসটি হাসান গরীব উবাই ইবনে কাবের হাদিস থেকে]
সনদের অবস্থা:
এই হাদিসটি হাসান-সহীহ। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: "হাদীসুন হাসানুন গরীবুন মিন হাদীসি উবাইয়্যা ইবনি কাব।" শাইখ মুকবিল হাদী আল-ওয়াদী এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
লিংক:Jami` at-Tirmidhi 3129 - Chapters on Tafsir - كتاب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم - Sunnah.com - Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم)
প্রশ্ন উঠতে পারে যে অন্যধর্মের দেবদেবিদের গালি দেওয়া কি জায়েজ?
উত্তর: হ্যা অবস্থা ভেদে জায়েজ কাজ। কারণ সেসব দেব দেবির কোন মর্যাদা ইসলাম স্বীকার করে না৷ কারণ আল্লাহ আযওয়াজ্জাল্লা বলেন:
إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا
(সুরা আল-আনকাবুত ২৯:১৭)
তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে শুধু মূর্তিগুলোর উপাসনা করছ এবং মিথ্যা তৈরি করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করছ, তারা তোমাদের জন্য কোনো রিজিকের মালিক নয়।
এইটা দীর্ঘ ফিকহি আলোচনার দাবি রাখে, যা নিচে উল্লেখ করা হলো:
বিষয়: মুশরিকদের দেব-দেবী গালি দেওয়ার মূল বিধান
যদি প্রশ্নটি মুশরিকদের মূর্তি ও দেব দেবীকে গালি দেওয়ার বিধান সম্পর্কে হয়, তবে তা জায়েয, বরং তা ইবাদত (সওয়াবের কাজ) তবে শর্ত হলো, এর ওপর কোনো বড় ফাসাদ (অনর্থ) সৃষ্টি না হয়। যদি এর কারণে বড় কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তা গুনাহ ও পাপ হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
{وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ} [سورة الأنعام: 108]
অর্থ: "তোমরা তাদেরকে গালি দিয়ো না যাদেরকে তারা আল্লাহ ছাড়া ডাকে, তাহলে তারা জ্ঞানহীনভাবে বিদ্বেষবশত আল্লাহকে গালি দেবে।"(সূরাহ আনআম ১০৮)
قَالَ الرَّازِي فِي تَفْسِيرِهِ:
"أَنَّ هَذَا الشَّتْمَ، وَإِنْ كَانَ طَاعَةً. إِلَّا أَنَّهُ إِذَا وَقَعَ عَلَى وَجْهٍ يَسْتَلْزِمُ وُجُودَ مُنْكَرٍ عَظِيمٍ، وَجَبَ الِاحْتِرَازُ مِنْهُ، وَالْأَمْرُ هَاهُنَا كَذَلِكَ، لِأَنَّ هَذَا الشَّتْمَ كَانَ يَسْتَلْزِمُ إِقْدَامَهُمْ عَلَى شَتْمِ اللَّهِ، وَشَتْمِ رَسُولِهِ، وَعَلَى فَتْحِ بَابِ السَّفَاهَةِ، وَعَلَى تَنْفِيرِهِمْ عَنْ قَبُولِ الدِّينِ، وَإِدْخَالِ الْغَيْظِ، وَالْغَضَبِ فِي قُلُوبِهِمْ، فَلِكَوْنِهِ مُسْتَلْزِمًا لِهَذِهِ الْمُنْكَرَاتِ، وَقَعَ النَّهْيُ عَنْهُ."
ইমাম রাযী তাঁর তাফসীরে বলেন: এই গালি যদিও ইবাদত (সওয়াবের কাজ) , তবে যদি তা এমনভাবে করা হয় যা একটি বড় মন্দ কাজের কারণ হয়, তাহলে তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। এখানে সেটাই হয়েছে, কারণ এই গালি তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালি দেওয়ার দিকে উৎসাহিত করত, এবং নির্বুদ্ধিতার দরজা খুলে দিত, এবং তাদেরকে দ্বীন গ্রহণ থেকে বিরত রাখত এবং তাদের অন্তরে ক্রোধ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করত। তাই এসব মন্দ কাজের দিকে পরিচালিত করার কারণে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)-বলেন:
قَالَ ابْنُ الْجَوْزِي فِي زَادِ الْمَسِيرِ:
"فَمَتَى كَانَ الْكَافِرُ فِي مَنَعَةٍ، وَخِيفَ أَنْ يَسُبَّ الْإِسْلَامَ، أَوِ النَّبِيَّ -عَلَيْهِ السَّلَامُ-، أَوِ اللَّهَ -عَزَّ وَجَلَّ-، فَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَسُبَّ صُلْبَانَهُمْ، وَلَا دِينَهُمْ، وَلَا كَنَائِسَهُمُ، وَلَا يَتَعَرَّضُ إِلَى مَا يُؤَدِّي إِلَى ذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ بِمَنْزِلَةِ الْبَعْثِ عَلَى الْمَعْصِيَةِ."
অনুবাদ: ইমাম ইবনুল জাওযী 'যাদুল মাসীর'-এ বলেন: যখন কাফিররা শক্তিশালী অবস্থায় থাকে এবং ভয় হয় যে তারা ইসলাম, নবী (সা.) বা আল্লাহকে গালি দিতে পারে, তখন কোনো মুসলিমের জন্য তাদের ক্রুশ, তাদের ধর্ম বা তাদের গির্জাকে গালি দেওয়া হালাল নয়। আর এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা ওই দিকে নিয়ে যায়। কারণ এটা গুনাহের দিকে প্রেরণ করার মতো।
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ:
"قَالَ الْعُلَمَاءُ: حُكْمُهَا بَاقٍ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، فَمَتَى كَانَ الْكَافِرُ فِي مَنَعَةٍ، وَخِيفَ أَنْ يَسُبَّ الْإِسْلَامَ، أَوِ النَّبِيَّ ﷺ، أَوِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَسُبَّ صُلْبَانَهُمْ، وَلَا دِينَهُمْ وَكَنَائِسَهُمْ، وَلَا يَتَعَرَّضُ إِلَى مَا يُؤَدِّي إِلَى ذَلِكَ."
অনুবাদ: ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: আলেমরা বলেছেন: এই বিধান (আয়াতের বিধান) এই উম্মতের ওপর সব অবস্থায় বহাল আছে। যখন কাফিররা শক্তিশালী অবস্থায় থাকে এবং ভয় হয় যে তারা ইসলাম, নবী (সা.) বা আল্লাহকে গালি দিতে পারে, তখন কোনো মুসলিমের জন্য তাদের ক্রুশ, তাদের ধর্ম বা তাদের গির্জাকে গালি দেওয়া হালাল নয়। আর এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা সেই দিকে নিয়ে যায়।
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ:
"قَالَ الْعُلَمَاءُ: حُكْمُهَا بَاقٍ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، فَمَتَى كَانَ الْكَافِرُ فِي مَنَعَةٍ، وَخِيفَ أَنْ يَسُبَّ الْإِسْلَامَ، أَوِ النَّبِيَّ ﷺ، أَوِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَسُبَّ صُلْبَانَهُمْ، وَلَا دِينَهُمْ وَكَنَائِسَهُمْ، وَلَا يَتَعَرَّضُ إِلَى مَا يُؤَدِّي إِلَى ذَلِكَ."
ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: আলেমরা বলেছেন: এই বিধান (আয়াতের বিধান) এই উম্মতের ওপর সব অবস্থায় বহাল আছে। যখন কাফিররা শক্তিশালী অবস্থায় থাকে এবং ভয় হয় যে তারা ইসলাম, নবী (সা.) বা আল্লাহকে গালি দিতে পারে, তখন কোনো মুসলিমের জন্য তাদের ক্রুশ, তাদের ধর্ম বা তাদের গির্জাকে গালি দেওয়া হালাল নয়। আর এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা সেই দিকে নিয়ে যায়।
আর, যদি প্রশ্ন তোলেন, তা কখন জায়েজ? তাহলে আমরা দলিল উপস্থাপন করব আবু বকর (রা) এর ঘটনা সম্পর্কে, তাহলে হাদিসটি উল্লেখ পূর্বক দেখাতে চাই,
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَمَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالاَ:
خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ، فَلَمَّا سَارَ، أَتَاهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ، فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ ﷺ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ نَحْوًا مِنْ قَوْلِهِ لِبُدَيْلٍ، فَقَالَ عُرْوَةُ عِنْدَ ذَلِكَ:
"أَيْ مُحَمَّدُ، أَرَأَيْتَ إِنِ اسْتَأْصَلْتَ أَمْرَ قَوْمِكَ، هَلْ سَمِعْتَ بِأَحَدٍ مِنَ الْعَرَبِ اجْتَاحَ أَهْلَهُ قَبْلَكَ؟ وَإِنْ تَكُنِ الأُخْرَى، فَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَرَى وُجُوهًا، وَإِنِّي لَأَرَى أَوْشَابًا مِنَ النَّاسِ، خَلِيقًا أَنْ يَفِرُّوا وَيَدَعُوكَ."
فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: "امْصُصْ بِبَظْرِ اللَّاتِ، أَنَحْنُ نَفِرُّ عَنْهُ وَنَدَعُهُ؟"
ثُمَّ قَالَ عُرْوَةُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو بَكْرٍ. قَالَ: أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْلاَ يَدٌ كَانَتْ لَكَ عِنْدِي لَمْ أَجْزِكَ بِهَا، لأَجَبْتُكَ.
[رواه البخاري]
বাংলা অনুবাদ (শুধু মতনের)
মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান ইবনে হাকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সা.) হুদাইবিয়ার বছর বের হলেন। তিনি যখন চললেন, তখন উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আছ-ছাকাফী তাঁর কাছে এলো। সে নবী (সা.)-এর সাথে কথা বলতে লাগল। নবী (সা.) তাকে তেমনই কথা বললেন যেমনটি তিনি বুদাইলকে বলেছিলেন। তখন উরওয়াহ বলল:
"হে মুহাম্মদ! আপনি কি মনে করেন যদি আপনি আপনার সম্প্রদায়কে নির্মূল করেন, তাহলে কি আপনি আগে কোনো আরবকে শুনেছেন যে তার নিজের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছে? আর যদি অন্যটি হয় (অর্থাৎ আপনি পরাজিত হন), তবে আমি আল্লাহর কসম! আমি এমন কিছু মুখ দেখছি এবং আমি কিছু মিশ্র লোক দেখছি যাদের থেকে আশা করা যায় যে তারা পালিয়ে যাবে এবং আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।"
তখন আবু বকর সিদ্দীক (রা.) তাকে বললেন: "তুমি লাতের যোনী চোষণ করো। আমরা কি তার থেকে
পালিয়ে যাব এবং তাকে ছেড়ে দেব?"
অতঃপর উরওয়াহ বলল: এই ব্যক্তি কে? তারা বলল: আবু বকর। সে বলল: আরে, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি আপনার কাছে আমার একটি পাওনা না থাকত যা আমি পরিশোধ করিনি, তাহলে আমি আপনার জবাব দিতাম।
[সহীহ বুখারী]
আলেমদের ব্যাখ্যা:
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-বলেন:
قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ:
"وَكَانَتْ عَادَةُ الْعَرَبِ الشَّتْمَ بِذَلِكَ لَكِنْ بِلَفْظِ الأُمِّ، فَأَرَادَ أَبُو بَكْرٍ الْمُبَالَغَةَ فِي سَبِّ عُرْوَةَ بِإِقَامَةِ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ مَقَامَ أُمِّهِ، وَحَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ مَا أَغْضَبَهُ بِهِ مِنْ نِسْبَةِ الْمُسْلِمِينَ إِلَى الْفِرَارِ. وَفِيهِ جَوَازُ النُّطْقِ بِمَا يُسْتَبْشَعُ مِنَ الأَلْفَاظِ لإِرَادَةِ زَجْرِ مَنْ بَدَا مِنْهُ مَا يَسْتَحِقُّ بِهِ ذَلِكَ."
অর্থ: আরবদের রীতি ছিল এ ধরনের কথার মাধ্যমে গালি দেওয়া, তবে সাধারণত 'মা' শব্দটি ব্যবহার করত। আবু বকর (রা.) উরওয়াহকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করতে চেয়েছিলেন যে তিনি যে মূর্তিকে পূজা করতেন, তাকে তার মায়ের স্থানে দাঁড় করিয়েছেন। এই কথাটি তাকে বলতে প্রেরণা দিয়েছিল উরওয়াহর সেই কথা যা মুসলিমদেরকে পলায়নকারী বলে অভিহিত করেছিল। এতে প্রমাণ রয়েছে যে, এমন শব্দ উচ্চারণ করা জায়েয যা সাধারণত অশ্লীল মনে করা হয়, যদি তা এমন ব্যক্তিকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
বলা হয় যার থেকে এমন কথা বের হয়েছে যা তার জন্য শাস্তির যোগ্য।
ইমাম ইবনে নুমাইর বলেন:
وَقَالَ ابْنُ النُّمَيْرِ فِي قَوْلِ أَبِي بَكْرٍ:
"تَخْسِيسٌ لِلْعَدُوِّ، وَتَكْذِيبُهُمْ، وَتَعْرِيضٌ بِإِلْزَامِهِمْ مِنْ قَوْلِهِمْ إِنَّ اللَّاتَ بِنْتُ اللَّهِ ـ تَعَالَى اللَّهُ عَنْ ذَلِكَ عُلُوًّا كَبِيرًا ـ بِأَنَّهَا لَوْ كَانَتْ بِنْتًا لَكَانَ لَهَا مَا يَكُونُ لِلإِنَاثِ."
আবু বকর (রা.)-এর এই উক্তির মাধ্যমে তিনি শত্রুকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন, তাদের মিথ্যা প্রমাণ করেছেন এবং তাদেরকে তাদের নিজস্ব কথার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে তারা বলে 'লাত আল্লাহর কন্যা' (আল্লাহ তা থেকে বহু উর্ধ্বে)। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি লাত কন্যা হতো, তাহলে তারও নারীদের মতো যা থাকে তা থাকত।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
وَقَالَ الإِمَامُ ابْنُ الْقَيِّمِ فِي زَادِ الْمَعَادِ:
"وَفِي قَوْلِ الصِّدِّيقِ لِعُرْوَةَ (امْصُصْ بِبَظْرِ اللَّاتِ) دَلِيلٌ عَلَى جَوَازِ التَّصْرِيحِ بِاسْمِ الْعَوْرَةِ إِذَا كَانَ فِيهِ مَصْلَحَةٌ تَقْتَضِيهَا تِلْكَ الْحَالُ."
আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর উক্তি "امصص بظر اللات" -তে প্রমাণ রয়েছে যে, গোপন অঙ্গের নাম সরাসরি উচ্চারণ করা জায়েয, যদি তাতে এমন কোনো স্বার্থ থাকে যা সেই অবস্থায় প্রয়োজনীয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-বলেন:
وَقَالَ شَيْخُ الإِسْلاَمِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ:
"فَمَتَى ظَلَمَ الْمُخَاطَبُ لَمْ نَكُنْ مَأْمُورِينَ أَنْ نُجِيبَهُ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ."
অর্থ: যখন সম্বোধনকারী জুলুম করে, তখন আমরা এটির উত্তম পন্থায় জবাব দিতে বাধ্য নই।
এটি কি নবী (সা.) এর নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক?
এটি সাংঘর্ষিক নয়। কারণ:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা বলেন:
{لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ} [سورة النساء: 148]
অর্থ: "মন্দ কথার প্রকাশ্য উচ্চারণ আল্লাহ পছন্দ করেন না, কিন্তু যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (তার জন্য অনুমতি আছে)।"
দ্বিতীয়ত: নবী (সা.) আবু বকর (রা.)-কে এ কাজ করতে নিষেধ করেননি, বরং তিনি তা সমর্থন করেছেন। আর নবী (সা.) কখনো কোনো বাতিল কাজের ওপর কাউকে সমর্থন করেন না।
তৃতীয়ত: নবী (সা.)-বলেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِطَعَّانٍ وَلاَ لَعَّانٍ وَلاَ الْفَاحِشِ الْبَذِئِ" [رواه الترمذي وأحمد]
অর্থ: "মুমিন হয় গালিদাতা নয়, লানতকারী নয়, অশ্লীল ও বেয়াদব নয়।"
এই নিষেধাজ্ঞা সেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো শরয়ী স্বার্থ নেই। কিন্তু এখানে শরয়ী স্বার্থ ছিল উরওয়াহর মিথ্যা ও অপবাদের জবাব দেওয়া এবং ইসলামের সম্মান রক্ষা করা
এসব ক্ষেত্রে মুশরিকদের দেবদেবিকে গালি দেওয়া জায়েজ কাজ।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।