ইসলাম কখন এসেছে ১৪০০ বছর আগে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর সময় থেকে নাকি আদম আলাইহিস সালাম থেকে ?
কোরআন কি পৃথিবীর শুরু থেকেই ছিলো নাকি ১৪০০ বছর আগে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নাযিল হয়েছে?
আগের আসমানী কিতাব গুলো তো আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেছেন।এর বিধান কি বাতিল হয়েছে? যদি বাতিল হয়ে থাকে তাহলে পূর্বের নবীদের কি অস্বীকার করা হবে?
অন্যান্য উত্তরসমূহ (2)
আপনার ১ম প্রশ্ন হল, ইসলাম কবে এসেছে?
এর উত্তর নির্ভর করে আপনি ইসলাম বলতে কি বুঝাচ্ছেন? যদি ইসলামবলতে বোঝেন আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের একমাত্র সত্য দ্বীন, তাহলে ইসলামের সূচনা আদম আ. থেকেই।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
"নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম।"
(সূরা আলে ইমরান ৩:১৯)
তাহলে ১৪০০ বছর আগে কী এসেছে?
১৪০০ বছর আগে এসেছে- ১। আল কুরআন ২।শেষ নবী ৩। ইসলামের চূড়ান্ত ও পরিপূর্ণ শরিয়ত (মডেল ভার্শন)
আল্লাহ তায়ালা বলে,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।"
(সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩)
অর্থাৎ, নতুন কোন দ্বীন বা ধর্ম আসেনি। বরং শরিয়তের পূরণাঙ্গ ও সর্ব শেষ রূপ এসেছে। সকল নবীরাই এক বিষয়ের উপর দাওয়াত দিয়ে গেসেন-তাওহীদ। এটাই ইসলামের মূল শ্লোগান।
আপনি ২য় প্রশ্ন করেছেন কুরআন কবে নাযিল হয়েছে।
আপনি যদি বুঝাতে চান যে আমরা আজকে যে কুরআন পড়ি তা মানুষের কাছে কবে এসেছে? এর উত্তর হল ১৪০০ বছর আগে।
কিন্তু আপনার প্রশ্ন যদি হয়, আল্লাহর কালাম হিসেবে কুরআন কি তখনই প্রথম অস্তিত্ব লাভ করেছে? এর উত্তর হল- না। বরং কুরআন আল্লাহর কালাম বা বাণী। আর আল্লাহ যেমন চিরন্তন, তাঁর সিফাতও চিরন্তন।
এ দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী নয়। যেমন একজন শিক্ষক বছরের শুরুতেই পুরো পাঠ্যসূচি জানেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে তা অধ্যায়ভিত্তিক পড়ান। তেমনি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর জ্ঞান ও কালাম চিরন্তন, কিন্তু মানুষের হিদায়াতের প্রয়োজনে কুরআন নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধাপে ধাপে নাযিল হয়েছে।
আপনার শেষ প্রশ্নের উত্তর হল, আগের আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন আল্লাহ তায়ালা। কোন নবী না। সেই আসমানী কিতাবের সর্ব শেষ এডিশনে (কুরআন) আল্লাহ তায়ালাই বলে দিলেন আগেরগুলা বাদ দিয়ে শুধু কুরআন মানতে। আবার কুরানকে বলে দিলেন পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী। বিপরীত না। তাহলে এখানে নবীকে কেন অস্বীকার করা হবে?
আগের আসমানী কিতাবের বিধান বাতিল হওয়া ও পূর্বের নবীদের অস্বীকার করা দুটো দুই বিষয়।
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য অনুসরণীয় হলো কুরআন ও সুন্নাহ। এর অর্থ এই নয় যে পূর্ববর্তী কিতাবগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল না; বরং তাদের বিধান পরবর্তী ও চূড়ান্ত শরিয়ত দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
একটি উদাহরণ বুঝুন। ধরুন, একটি দেশে ২০১০ সালের আইন ছিল। ২০২৫ সালে সংসদ নতুন আইন পাস করল।
পুরনো আইন কি কখনো আইন ছিল না? ছিল।
এখন কি সেই পুরনো আইন কার্যকর? না বরং নতুন আইন তা প্রতিস্থাপন করেছে। এতে পুরনো আইনকে বা আইনপ্রণেতাকে "মিথ্যা" বলা হয় না; বরং বলা হয়, তার কার্যকারিতা শেষ হয়েছে।
প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি আপনি আপনার উত্তরটি পেয়েছেন।
ইসলাম সেই আদম(আ) এর সময় থেকেই আছে। ইসলাম সকল নবীর ধর্ম, আল্লাহর দেয়া একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, পৃথিবীর আদি ধর্ম।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমে(র.) শিফাউল আলীল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনঃ
وَالْقُرْآنُ كَتَبَهُ اللّٰهُ فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ قَبْلَ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
অর্থঃ “আল্লাহ কুরআনকে আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগে লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন।”
এরপর তিনি দলিল হিসেবে بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ
অর্থ: “বরং এটি মহিমান্বিত কুরআন, সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ” (সুরা বুরূজ, ৮৫:২১–২২) উল্লেখ করেছেন।
https://app.turath.io/book/205?print_page=1%2C140
অর্থাৎ কুরআন পৃথিবী শুরুর আগে থেকেই ছিল, কিন্তু তা দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে ১৪০০ বছর আগে। যেহেতু তা শেষ নবীর উপর নাজিল হয়েছে, তাই এটা শেষ নবীর উম্মতের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের দ্বারা আদি থেকেই জানেন শেষ নবীর উম্মতের জন্য কী প্রেক্ষাপট থাকবে।
আগের আসমানী কিতাবগুলোর শরিয়তী হুকুম বা আইন মানসুখ বা রহিত হয়েছে। কিন্তু এসব কিতাবে একই দ্বীন ইসলাম শেখানো হয়েছিল। ইসলামকে বাতিল করা হয়নি। একটা দেশে সময়ের সাথে সাথে সংবিধান এবং আইন বদল হতে পারে। কিন্তু সংবিধান এবং আইন বদল করে নতুন সংবিধান বা আইন আনার অর্থ এই না যে দেশকেই বাতিল করা হচ্ছে।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।