বিজ্ঞানের আসলে কাজ হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা বিভিন্ন ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশনের মাধ্যমে। এখানে বিজ্ঞান কোনভাবেই বলতে পারে না এই নিয়মগুলো কিভাবে আসলো, কে সৃষ্টি করলো, কোন উৎস থেকে এই নিয়মগুলো আসলো। এখন যারা নিজেদের বিজ্ঞান মনষ্ক নাস্তিক দাবি করে তারা কোন বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে? তারাতো প্রমাণ ছাড়াই স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করছে তাহলে তাদের অন্ধবিশ্বাসী বলা যায়?
বিজ্ঞান সাধারণত প্রকৃতিতে কী ঘটে, কোন নিয়মে ঘটে, এবং সেই নিয়মগুলোকে কীভাবে পরীক্ষাযোগ্য মডেল বা গণিতের মাধ্যমে বর্ণনা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র বা আইনস্টাইনের ফিল্ড ইকুয়েশন মহাকর্ষের আচরণ বর্ণনা করে। কিন্তু “কেন এমন নিয়মই আছে?”, “নিয়মগুলো কেন অস্তিত্বশীল?”, “এগুলোর চূড়ান্ত ভিত্তি কী?” কিংবা “কোনো বুদ্ধিমান সত্তা এগুলোর কারণ কি না?” এসব প্রশ্ন সরাসরি বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রশ্ন নয়। এগুলো মূলত দর্শন ও metaphysics-এর প্রশ্ন।
“কোনো ধরনের স্রষ্টা একেবারেই নেই” এই সর্বজনীন metaphysical দাবিটি বিজ্ঞান করেনা।
এ কারণে কেউ যদি বলে:
“বিজ্ঞান স্রষ্টাকে খুঁজে পায়নি, তাই স্রষ্টা নেই”
তাহলে এই যুক্তি বৈধ নয়।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান সাধারণত methodological naturalism অনুসরণ করে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান প্রাকৃতিক কারণ অনুসন্ধান করে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বিজ্ঞান ঘোষণা করছে, “প্রকৃতির বাইরে কিছুই নেই।” দ্বিতীয় দাবিটি হলো philosophical naturalism, যা একটি দর্শনগত অবস্থান, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন পদার্থবিদ বলতে পারেন:
“এই ঘটনাটি এই সমীকরণ অনুযায়ী ঘটে।”
কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্ত আসে না:
“অতএব, এই নিয়মগুলোর পেছনে কোনো স্রষ্টা নেই।”
এটি হবে একটি অতিরিক্ত দার্শনিক inference।
বিজ্ঞান প্রকৃতির নিয়মগুলো আবিষ্কার ও বর্ণনা করে, কিন্তু এই নিয়মগুলোর চূড়ান্ত অস্তিত্বগত ভিত্তি কী, কেন এগুলো আছে, অথবা এগুলোর পেছনে কোনো স্রষ্টা আছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান নিজস্ব পদ্ধতি দিয়ে চূড়ান্তভাবে দিতে পারে না। তাই “বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে স্রষ্টা নেই” বলা বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি দার্শনিক দাবি। কেউ যদি এই দাবিকে কোনো যুক্তি ছাড়াই সত্য ধরে নেয়, তাহলে সেটি বিজ্ঞান নয়, বরং একটি অপ্রমাণিত metaphysical বিশ্বাস।
সুতরাং, কেউ যদি দৃঢ়ভাবে বলে: “কোনো স্রষ্টা নেই” কিন্তু তার কাছে এর পক্ষে কোনো যুক্তি বা justification না থাকে, এবং শুধু “বিজ্ঞান” শব্দটি ব্যবহার করে দাবিটিকে সত্য বলে ধরে নেয়, তাহলে তার অবস্থানকে dogmatic বা unsupported belief , “অযৌক্তিকভাবে দৃঢ় বিশ্বাস”, “প্রমাণহীন metaphysical assertion” বলা যায়। কাজেই “অন্ধবিশ্বাস” শব্দটিও ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ এধরণের দাবিগুলো অন্ধবিশ্বাসেরই রুপ।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।