প্রশ্ন করুন
সকল প্রশ্নোত্তর তালিকায় ফিরে যান
প্রশ্ন
Abdullah al Jabir ইসলাম 01 Aug 2026

পৃথিবীর বয়স ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর। আর মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর।
তাহলে সুরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে যে আকাশ যমিন পৃথক করার কথা আছে (বিগ ব্যাং) সে হিসেবে তো মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর বয়স সেইম হওয়ার কথা!?? কারণ। আমরা যে আকাশ দেখি তা মহাবিশ্বের অংশ।

অফিসিয়াল উত্তর
গবেষক প্যানেল 08 Aug 2026

না, এখান থেকে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বয়স একই হওয়া আবশ্যক নয়। সমস্যাটি তৈরি হয় যখন সূরা আম্বিয়া ৩০ এর “আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একত্র ছিল” কথাটিকে “আজকের পূর্ণাঙ্গ পৃথিবী গ্রহটি তখনই তৈরি হয়ে গিয়েছিল” অর্থে নেওয়া হয়।

আয়াতটি হলো:

أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا

“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সংযুক্ত অবস্থায় ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম।”
সূরা আল আম্বিয়া ২১:৩০

১. মহাবিশ্বের বয়স আর মহাবিশ্বের ভেতরের প্রতিটি বস্তুর বয়স এক নয়

বর্তমান কসমোলজি অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। কিন্তু পৃথিবী ও সৌরজগত তৈরি হয়েছে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে। NASA নিজেই এই দুটো বয়স পাশাপাশি উল্লেখ করে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ Big Bang হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ, Milky Way ইত্যাদি তাদের বর্তমান রূপে তৈরি হয়নি।

খুব সরলভাবে ধারাটা এমন:

প্রাথমিক মহাবিশ্ব → মৌলিক কণা → পরমাণু → নক্ষত্র → গ্যালাক্সি → পূর্ববর্তী নক্ষত্রে ভারী মৌল সৃষ্টি → নতুন নক্ষত্র ও সৌরজগত → পৃথিবী

অর্থাৎ পৃথিবী মহাবিশ্বের প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পরে একটি স্বতন্ত্র গ্রহ হিসেবে গঠিত হয়েছে।

২. তাহলে আয়াতে “পৃথিবী” কীভাবে প্রথম অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে?

যদি কেউ আয়াতটির رتقًا ففتقناهما অংশকে Big Bang বা মহাবিশ্বের আদি সংযুক্ত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন, তাহলে কথাটি এমন নয় যে:

১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বর্তমান গোলাকার পৃথিবী তৈরি ছিল এবং সেটি আকাশের সঙ্গে লেগে ছিল।

বরং এর অর্থ নেওয়া যেতে পারে যে, পরবর্তীকালে যে পদার্থ ও মহাজাগতিক প্রক্রিয়া থেকে পৃথিবীসহ মহাবিশ্বের কাঠামোগুলো গঠিত হবে, সেগুলো আদি মহাবিশ্বের অভিন্ন অবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে সৃষ্টিজগত ধাপে ধাপে পৃথক ও বিন্যস্ত হয়েছে।

পৃথিবী আজ ৪.৫৪ বিলিয়ন বছরের পুরোনো গ্রহ। কিন্তু পৃথিবীর উপাদানের ইতিহাস তার চেয়ে অনেক পুরোনো। পৃথিবী যে পদার্থ দিয়ে তৈরি, সেই পদার্থের মৌলিক উৎস মহাবিশ্বের আরও প্রাচীন ইতিহাসের মধ্যে পড়ে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা সহজ হবে।

ধরুন আমি বললাম:

“এই টেবিল আর চেয়ার যে কাঠ থেকে তৈরি, একসময় সেই কাঠ একই গাছের অংশ ছিল। পরে সেগুলো আলাদা করা হয়েছে।”

এ থেকে কি প্রমাণ হয় টেবিল ও চেয়ার একই দিনে তৈরি হয়েছিল?

না।

একটি কাঠ আগে আলাদা করা হতে পারে, পরে টেবিল হয়েছে। আরেকটি পরে চেয়ার হয়েছে। একই প্রাথমিক উৎস থাকা আর চূড়ান্ত বস্তু হিসেবে একই বয়স হওয়া এক কথা নয়। একইভাবে, primordial cosmos এর সঙ্গে পৃথিবীর উপাদানের সম্পর্ক থাকলেও “পৃথিবী নামক গ্রহটি তখনই সম্পূর্ণ গঠিত ছিল” এই সিদ্ধান্ত আসে না।

৩. “আমরা যে আকাশ দেখি তা তো মহাবিশ্বের অংশ”

এটা ঠিক। কিন্তু এখানেও “মহাবিশ্বের বয়স” এবং “আকাশে দেখা প্রতিটি বস্তুর বয়স” আলাদা করতে হবে। আমরা আকাশে যে সূর্য দেখি তার বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর। বিভিন্ন নক্ষত্রের বয়স বিভিন্ন। বিভিন্ন গ্যালাক্সির নক্ষত্রও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়েছে।

অথচ পুরো মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। অতএব, মহাবিশ্বের অংশ হওয়া ≠ মহাবিশ্বের সমান বয়স হওয়া। যেমন পৃথিবী মহাবিশ্বের অংশ, কিন্তু পৃথিবীর বয়স মহাবিশ্বের বয়সের সমান নয়।

উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন

এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।