ইসলামের আইন তো কিয়ামত পর্যন্ত চলার কথা । তাহলে ভারতে কেন তিন তালাকের বিধান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল?
অন্যান্য উত্তরসমূহ (1)
“ইসলামের আইন কিয়ামত পর্যন্ত চলবে” — এ বিশ্বাস মুসলমানদের আকিদার অংশ।এ কথার অর্থ হলো, আল্লাহর শরিয়াহ মুসলমানদের জন্য চিরস্থায়ী হিদায়াত ও আদর্শ হিসেবে বহাল থাকবে। কিন্তু সব রাষ্ট্র সেটি বাস্তবে প্রয়োগ করবে—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কুরআন-হাদিসে নেই।
কোন রাষ্ট্র শরিয়াহ আইনকে কীভাবে প্রয়োগ করবে, তা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র; সেখানে শরিয়াহ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং ব্যক্তিগত পারিবারিক আইনের কিছু অংশ সীমিতভাবে স্বীকৃত ছিল। তাই রাষ্ট্র সংসদীয় আইনের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করেছে।
এছাড়া ইতিহাসে দেখা যায়, উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমল থেকেই ইসলামী আইন ধীরে ধীরে সীমিত করা হয়েছিল।
সুতরাং, ভারতের “তিন তালাক নিষিদ্ধ” হওয়া মানে এই নয় যে ইসলাম বাতিল হয়ে গেছে; বরং এটি এমন একটি ফিকহি বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইনগত অবস্থান, যেখানে মুসলিম আলেমদের মধ্যেই আগে থেকে মতভেদ ছিল। ইসলামী ফিকহে এ বিষয়ে একাধিক মত আছে, এবং মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ভারতে “তিন তালাক নিষিদ্ধ” বলতে আসলে বোঝানো হয় “তাৎক্ষণিক তিন তালাক” (instant triple talaq বা talaq-e-biddat) অবৈধ ঘোষণা করা। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এবং ২০১৯ সালে আইন পাস হয়। এর পেছনে কয়েকটি যুক্তি ছিল:
- এক বসায় তিন তালাক দিলে নারীর প্রতি অন্যায় ও আকস্মিক ক্ষতি হয়।
- বহু মুসলিম দেশেও এ প্রথা সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে।
- ইসলামের মধ্যেই এ বিষয়ে মতভেদ আছে; অর্থাৎ সবাই একে বাধ্যতামূলক শরিয়াহ বিধান বলেন না।
- ভারতীয় আদালত এটিকে মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক সমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেছে।
এই ধরণের তালাকের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যেও মতভেদ লক্ষ করা যায়।
উত্তর দেওয়ার জন্য লগইন করুন
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হলে আপনাকে ইউজার একাউন্টে লগইন বা নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে।