হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) এর বিয়ে নিয়ে সকল অভিযোগের জবাব
ইসলাম বিদ্ধেষ ছড়ানোর জন্য ইসলামের উপর অমুসলিমরা যে সকল মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) এর বিয়ে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন আয়েশা (রাঃ) কে বিয়ে করেন তখন আয়েশা (রাঃ)’র বয়স ছিলো ৬/৭ এবং যখন ঘরে তুলে নিয়ে যায় তখন বয়স ছিলো ৯ বছর। ৬ কিংবা ৯ সংখ্যাগুলো যেমন খুবই ছোট তেমনি একজন মানুষের বয়সের ক্ষেত্রেও ছোট! তাই অমুসলিমদের অভিযোগ হলো, একজন নবী কি করে ৬ বছর বয়সী একজন শিশুকে বিয়ে করতে পারে! ৬ বছরের একটা শিশুকে বিয়ে করা নারীলোভী বা শিশুকামীতার সামিল! (নাউজুবিল্লাহ)
বর্তমান সময়ে ৬ বছরের কোনো মেয়ের সম্মতি আইনগতভাবে গ্রহণ করা হয় না এবং ৬ বছর বয়সের কোনো মেয়ে শারিরীক সম্পর্ক করার জন্য সক্ষম নয়। তাই মুহাম্মদ (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে বিয়ে করাটা ছিলো ধর্ষণের সামিল! (নাউজুবিল্লাহ) অনলাইন কিংবা অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে নাস্তিকদের খুবই জনপ্রিয় একটি অভিযোগ এটি। অথচ, মক্কার জাহেলরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পাগল, যাদুকর বলে অপবাদ দিয়েছিলো। কিন্তু কখনো নারীলোভী বা শিশুকামী, ধর্ষক, বলে গালি দেয়নি! মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর যারা এহেন মিথ্যাচার করে তাদের উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - বিয়ের ওয়ালী (অভিভাবক) এবং নারীর অনুমতি গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩১২৯-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ৭ বছর বয়সে বিয়ে করেন, যখন তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে দেয়া হয় তখন তার বয়স ছিল নয় বছর, তাঁর সাথে খেলনা ছিল। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ১৮ বছর। (মুসলিম)
সহীহ : মুসলিম ১৪২২। (( মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)| হাদিস:৩১২৯ | Mishkat al-Masabih, Hadith No. 3129 (hadithbd.com) ))
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. দোলনা সম্বন্ধে
৪৯৩৩। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ছয় অথবা সাত বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেন। আমরা মদীনায় আগমন করলে একদল মহিলা আসলেন। বর্ণনাকারী বিশরের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমার নিকট (আমার মা) উম্মু রূমান (রাঃ) আসলেন, তখন আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন, আমাকে প্রস্তুত করলেন এবং পোশাক পরিয়ে সাজালেন। অতঃপর আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলো। তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করলেন, তখন অমার বয়স নয় বছর। মা আমাকে ঘরের দরজায় দাঁড় করালেন এবং আমি উচ্চহাসি দিলাম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আমার মাসিক ঋতু হয়েছে। আমাকে একটি ঘরে প্রবেশ করানো হলো। তাতে আনসার গোত্রের একদল মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তারা আমার জন্য কল্যাণ ও বরকত কামনা করলেন।
সহীহ। (( সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)| হাদিস:৪৯৩৩ | Sunan Abu Dawood, Hadith No. 4933 (hadithbd.com) ))
বিবাহযোগ্য বয়স বা প্রাপ্তবয়স্ক বয়স কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
সাধারণত বয়ঃসন্ধিক (Puberty) বৈশিষ্টসমূহকে বিয়ের বয়সের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মেয়েদের জন্য এই বৈশিষ্ট ছিল ঋতুস্রাব বা মাসিকের সূচনা এবং ছেলেদের জন্য বয়ঃসন্ধিক চুল বা যৌনকেশ। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের স্বাস্থ্য ও বয়স্ক পরিচর্যা বিভাগ এর তথ্য অনুযায়ী,বয়ঃসন্ধি বলতে বুঝানো হয়, যখন আপনি শৈশব থেকে যৌবনে যেতে শুরু করেন। বয়ঃসন্ধির সময়, আপনার শরীর হরমোন তৈরি করে যা শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। প্রজনন সিস্টেম এবং অন্যান্য শরীরের সিস্টেম পরিপক্ক হয়, এবং শরীরের বিকাশ হয় যার ফলে শারীরিকভাবে একটি শিশুর জন্ম দিতে সক্ষমতা অর্জন করে। মহিলাদের বয়ঃসন্ধিকাল সাধারণত ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়। এটি কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। বয়ঃসন্ধি বিভিন্ন মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে ঘটে। এই পরিবর্তনগুলি কিছু লোকের জন্য দ্রুত এবং অন্যদের জন্য ধীরে ধীরে ঘটতে পারে। আপনার শরীরের জন্য সঠিক সময়ে আপনার বয়ঃসন্ধি শুরু হবে। এটি আপনার বন্ধু বা আপনার পরিবারের অন্যান্য মহিলাদের থেকে আলাদা হতে পারে। (( Puberty for girls - physical and emotional changes | healthdirect ))
নারীর Puberty বা মাসিকের সময় জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণ, বিশেষ করে পুষ্টির কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। (( Determinants of menarche - PMC (nih.gov) )) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ)গুলির মধ্যে একটি Eunice Kennedy Shriver National Institute of Child Health and Human Development (NICHD), এর দেওয়া তথ্য মতে, বয়ঃসন্ধির সূচনা, এটা জীবনেরর সময় যখন একজন ব্যক্তি যৌনভাবে পরিপক্ক হয়, সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সে এবং ছেলেদের জন্য ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। অকাল বয়ঃসন্ধি হল বয়ঃসন্ধি যা অস্বাভাবিকভাবে তাড়াতাড়ি শুরু হয় এবং বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি হল বয়ঃসন্ধি যা অস্বাভাবিকভাবে দেরিতে শুরু হয়। (( Puberty and Precocious Puberty | NICHD - Eunice Kennedy Shriver National Institute of Child Health and Human Development (nih.gov) ))
Mayoclinic এর দেওয়া তথ্য মতে, অকাল বয়ঃসন্ধি হল যখন শিশুদের শরীর খুব তাড়াতাড়ি প্রাপ্তবয়স্কদের দেহে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এই পরিবর্তন বয়ঃসন্ধি নামে পরিচিত। বেশিরভাগ সময়, বয়ঃসন্ধি ঘটে মেয়েদের ৮ বছর বয়সের পরে এবং ছেলেদের মধ্যে ৯ বছর বয়সের পরে। (( Precocious puberty - Symptoms and causes - Mayo Clinic )) সাধারণত মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল ৮-৯ বছর থেকে শুরু হলেও, অনেক সময় ৬ বছর বয়সেও মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হতে পারে। (( Puberty: Stages & Signs for Boys & Girls - familydoctor.org ))
আমেরিকান জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান প্রতিবেদন এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মাসিকের গড় বয়স নির্ভুলভাবে অনুমান করা খুবই কঠিন, এবং এটি ভৌগলিক অঞ্চল, জাতি, জাতি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং এটি বেশিরভাগ সময় 8 থেকে 16 বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। পশ্চিমে ৯-১৪ বছর বয়সের মধ্যে মাসিক হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। (( US National Health Statistics Report ))
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, কোনো মেয়ের যদি পিরিয়ড হয় বা বয়ঃসন্ধি কালে পৌঁছে যায় তখন সে সন্তান গর্ভধারনের জন্য সক্ষম হয়। আর স্থান-কাল-পাত্র বেদে পৃথিবীর একেক দেশে একেক সময়ে মেয়দের বয়ঃসন্ধীকাল শুরু হয়। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স মূলত নির্ধারিত হয় তার শারিরীক সক্ষমতার উপরে। যদি কোনো মেয়ে ৯ বছর বয়সেই শারিরীকভাবে সক্ষমতা অর্জন করে তবে তার জন্য ৯ বছর বয়সই বিবাহের জন্য উপযুক্ত সময়। আবার কোনো মেয়ে যদি ২৫ বছর বয়সেও শারিরীক সক্ষমতা অর্জন না করে তবে ২৫ বছর বয়সেও সে বিবাহের জন্য উপযুক্ত বলে গণ্য হবে না।
পৃথিবীর সকল দেশেই কি একটি নির্দিষ্ট বিবাহযোগ্য বয়স রয়েছে?
আমরা জানি পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের জন্য বিয়ের একটা নির্ধারিত বয়স থাকে। মেয়েরা যখন বয়ঃসন্ধি কালে পৌঁছে যায় তখন সে সন্তান গর্ভধারনের সক্ষমতা অর্জন করে বা বিয়ের জন্য পরিপক্ক হয়। স্থান-কাল-পাত্র বেদে পৃথিবীতে একেক দেশে একেক সময়ে মেয়দের বয়ঃসন্ধীকাল শুরু হয়। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স মূলত নির্ধারিত হয় তার শারিরীক সক্ষমতার উপরে। এই কারণে পৃথিবীর সকল দেশে কোনো নির্দিষ্ট করে নির্ধারিত বয়স নেই যেমন, বাংলাদেশে মেয়েরদের জন্য ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর বৈধ হলেও, চীনে এই বয়সটি আবার অবৈধ। কারণ, চীনে বৈধ বিয়ের বয়স পুরুষের জন্য ২২ বা তার বেশি এবং মহিলাদের জন্য ২০ বা তার বেশি। (( Marriage Registration in China (china-consulate.gov.cn) )) এভাবে পৃথিবীর অনেক দেশের আইনের সাথে আরেক দেশের আইনের মিল থাকে না। এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। এই কারণে পৃথিবীর সকল দেশের Age of Consent এবং Age of Marriage এক নয়।
Age of Consent হলো এমন একটি বয়স, যে বয়সে আইন অনুসারে কাউকে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হওয়ার জন্য যথেষ্ট বয়স্ক বলে মনে করা হয়। (( THE AGE OF CONSENT | English meaning - Cambridge Dictionary )) বিবাহযোগ্য বয়স বা Age of Marriage হল একটি আইনী বয়স হিসাবে বা পিতামাতার, ধর্মীয় বা অন্যান্য ধরণের সামাজিক অনুমোদন সাপেক্ষে ন্যূনতম বয়স হিসাবে, যেখানে একজন ব্যক্তিকে বৈধভাবে বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়। (( Marriageable age - Wikipedia )) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস এর দেওয়া তথ্য মতে, যেসকল দেশের Age of Consent ১৪ থেকে ১৫ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, গ্রীস, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং স্লোভাকিয়া, এবং আরো ১৭ টি দেশ। ১৬-১৭ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাক্সেমবার্গ, লাটভিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য, এবং আরো ১০ টি দেশ। ১৮ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশ হলো ১টি। (( Data explorer - Age of consent for sexual activity with an adult (europa.eu) ))
ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য মতে, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মেয়েদের প্রাথমিক যৌন দীক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ হার রয়েছে। ২২ শতাংশের বেশি ১৫ বছর বয়সের আগে তাদের প্রথম যৌন মিলন করেছে। কিছু দেশে, হার ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অঞ্চল জুড়ে যৌন সম্মতির জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১৪ এবং ১৬ বছরের মধ্যে। তবুও কয়েকটি দেশে ১৪ বছরের কম বা ১৬ বছরের বেশি বয়স রয়েছে। (( file (unicef.org) )) বর্তমান সময়ে Age of consent ১৪-১৬ হলেও পূর্বে তা এমন ছিলো না। যেমন আমেরিকায় ১৮৯৯ সালে কিছু আমেরিকান বিচারব্যবস্থায় যৌন সম্মতির বয়স ছিল ৯ বছর! (( The age of sexual consent - PubMed (nih.gov) )) বর্তমানে যা ১৩-১৮ বছর (একেক অঞ্চলে একেক রকম)।
আমরা যদি ইতিহাসে আরো পেছনে যেতে পারি তাহলে আরো কম বয়স লক্ষ্য করতে পারব। আবার যত সামনে এগুবো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অনুমোদিত বয়সের সীমা ক্রমাগত বাড়ছে। একটি বৈধ বিয়ের জন্য ইউরোপের দেশগুলোর নির্ধারিত বয়স ১৫-১৬ বছর শ্রেণীভুক্ত দেশগুলি হল অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাজ্য, এবং আরো ১৬ টি দেশ। পোল্যান্ডে বৈধ বিয়ের নির্ধারিত বয়স ১৬ বছর। শ্রেণীভুক্ত টি শ্রেণীগত মান সহ দেশগুলি, কিন্তু শুধুমাত্র মহিলারা পোল্যান্ড। জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো ৪টি দেশে বিয়ের বৈধ বয়স ১৮ বছর। বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত বয়স নেই এমন দেশসমূহ হলো, বেলজিয়াম, গ্রীস, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, স্লোভেনিয়া,এবং আরো ৭টি দেশ। (( Data explorer - Age at which children can marry with consent of a public authority and/or parents (europa.eu) ))
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বিবাহের বয়স প্রতিটি রাজ্য এবং অঞ্চল দ্বারা নির্ধারিত হয় সাধারণ আইন দ্বারা বা পৃথক বিধি দ্বারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সে পিতামাতার সম্মতি ছাড়াই বিয়ে করতে পারেন। তবে নেব্রাস্কা রাজ্য ছাড়া, সেখানে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৯ বছর। ওয়াশিংটন ডি সি তে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৬ বছর এবং মিসিসিপি রাজ্যে বিয়ের জন্য নির্ধাতির বৈধ বয়স ২১ বছর। (( Marriage in the United States - Wikipedia ))
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতেই পারি যে, বিয়ে এবং যৌন সম্মতির জন্য নির্দিষ্ঠ একটি বৈধ বয়স নির্ধারিত নয়। একেক দেশে, একেক অঞ্চলে বৈধ বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স একেক রকম। নাস্তিকদের একটি ওয়েবসাইটে তারা দাবি করেছে যে, "বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া ভিন্ন বিষয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার একটি ধাপ, যা আসলে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া বোঝায় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো মানেই ধরে নেয়া হয় সাবালিকা বা প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে যাওয়া। যদিও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা অনুসারে কথাটি সত্য নয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার লক্ষণের সুচনা। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হচ্ছেন একজন মানুষ যার তুলনামূলকভাবে পরিণত বয়স হয়েছে যা যৌন পরিপক্কতা ও পুনরূপাৎদনের ক্ষমতা অর্জনের সাথে জড়িত। একজন নারী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সে সন্তান জন্ম দেয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাবার পরে তার শরীর সন্তান জন্মদানের উপযুক্ত হতে সবে শুরু করে। এই প্রক্রিয়া কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ৫ বছরে পূর্ণতা পায়। কিন্তু ইসলামে মেয়েদের সাথে যৌনকাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোও জরুরি কিছু নয়। সেই বিষয়েই এই লেখাটি।" নাস্তিকরা এই দাবির স্বপক্ষে (বয়ঃসন্ধি মানেই প্রাপ্তবয়স্ক না, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না, বয়সন্ধির পরেও ৩-৫ বছর লাগে পূর্ণতা পেতে, ইসলামে যৌন কাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানও জরুরি কিছু নয়) কোনো ধরণের প্রমাণাদি উপস্থাপন করেনি। অথচ আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছি যে, বয়ঃসন্ধিকালেই একজন মেয়ে গর্ভধারণ বা সন্তান পরিপক্কতা অর্জন করে।
একটি নির্দিষ্ট স্থান, কালের আইন দিয়ে কি অন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান, কালের আইনকে অবৈধ বলা যায়?
ধর্ষণের সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো মানুষ যদি সে দেশের নির্ধারিত বৈধ বিয়ের বয়স হওয়ার পূর্বে কোনো মেয়েকে বিয়ে করে বা সহবাস করে তাহলে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে। মুক্তমনা, নাস্তিকদের একটি যুক্তি হলো যেহেতু পৃথিবীতর অধিকাংশ দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮/১৬ তাই, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যেহেতু ৯ বছর মেয়ের সাথে সংসার করেছে তাই তিনি একজন ধর্ষক! (নাউজুবিল্লাহ) এখানে তাদের যুক্তিটি এমন যে, আমার দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। তাই পৃথিবীর অন্য যেসব দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বৈধ বয়স ১৮ এর কম, তাই সে দেশের সকল মানুষ ধর্ষক! এই দাবিটি একটি হাস্যকর দাবি বলে বিবেচিত হবে। কারণ, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া সহ আরো অনেক দেশেই ১৬ বছর বয়সী মেয়ে এবং ছেলেদের বিচারিকের সম্মতিতে বিয়ে করা যেতে পারে। অন্যদিকে, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো অনেক দেশেই বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স হয় ১৮ বছর। তাহলে কি জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সহ আরো অনেক দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স ১৮ বছর হওয়ার কারণে, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া সহ আরো যেসব দেশে বিয়ের জন্য নির্ধারিত বিয়ের বয়স ১৬ কিংবা আরো কম কম সেসব দেশের সব নাগরিকদের কি ধর্ষক বলে গণ্য করা হবে?
শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বিয়ের জন্য বৈধ বয়স নির্ধারণ করা হয় ১৮ বছর। (( Marriage in England and Wales - Wikipedia )) তাহলে কি ২০২৩ সালের পূর্বে যুক্তরাজ্যের সকল মানুষ ধর্ষক ছিলো আর এখন ২০২৩ সাল আসার পর সবাই এখন নিষ্পাপ হয়ে গিয়েছে? আবার, চিনে যেহেতু বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স ২১ বছর, তাই যেসব দেশে বিয়ের বয়স ১৮ থাকার কারণে তাদের আইন অনুযায়ী ১৮ এর কম থাকা দেশের নাগরিকগণ যদি ধর্ষক হয়ে যায় তাহলে তো ১৮ বছর নির্ধারিত থাকা দেশের নাগরিকরাও চীন দেশের আইন অনুযায়ী ধর্ষক হয়ে যায়! শুধু তাই না! বর্তমানেও পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ, এমনকি নাস্তিকদের স্বপ্নের দেশ ইউরোপ, আমেরিকা, এসব দেশের একটা ভিসা পাওয়ার লোভে যারা রাসুল (সাঃ) নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারে লিপ্ত থাকে সারাদিন, সেখানেও মেয়েদের যৌন সম্মতির বয়স বা Age of Consent ১২-১৬ বছর। তাহলে নাস্তিকদের যুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সকল মানুষই ধর্ষক! এমনকি নাস্তিক নিজেই একজন ধর্ষক! মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের এক মূর্খ নাস্তিক মুহাম্মদ (সাঃ) ধর্ষক প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেই নিজেকে ধর্ষক বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ফেইবুক লাইভে।
সেই ধর্ষক নাস্তিকের নিজ মুখের স্বীকারোক্তিটি দেখে নিতে পারেন।
ইসলামে বিবাহের মূলনীতি
ইসলামে উত্তম পদ্ধতিতে বিয়ের শর্ত ৪টি। ১. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ২. সহবাসের জন্য সক্ষম হতে হবে। ৩. বিয়ের জন্য মেয়ের সম্মতি থাকতে হবে। ৪. মেয়ের অভিবাবকের সম্মতি থাকতে হবে।
প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার স্বপক্ষে দলীলঃ
ইসলাম অনুযায়ী ছেলে বা মেয়েদের বিবাহযোগ্য বয়স হলো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে পরীক্ষা কর যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেকের পরিপক্কতা দেখতে পাও, তবে তাদের ধন-সম্পদ তাদেরকে দিয়ে দাও। (( (4:6) An-Nisa | (৪:৬) আন-নিসা-অনুবাদ/তাফসীর (hadithbd.com) )) সূরা নিসার ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে ইয়াতীমদের পরীক্ষা করতে যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়। এই আয়াত থেকেই প্রমাণ হয় যে বিবাহের জন্য একটা বয়স আছে। তবে এই বয়স কোনো সংখ্যার বয়স নয়। এটা হলো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বা শারীরীক, মানসিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করা। সূরা নিসার ৬নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
আর এতিমদেরকে পরীক্ষা কর বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, তাদের ধর্মীয় এবং লেনদেনের বিষয়ে । অতঃপর বা বয়সের মাধ্যমে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যাবে। আর ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে, সেই বয়সটি হলো পনের বৎসর পরিপূর্ণ হওয়া। (( তাফসীরে জালালাইন; খন্ড নংঃ ১ পৃষ্ঠা নংঃ ৭৭১; ইসলামীয়া কুতুবখানা প্রকাশনি ))

ইসলামী ফাউন্ডেশন হতে প্রকাশতি তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে,
(যে পর্যন্ত না তাহারা বিবাহের বয়সে পৌছায়) অর্থাৎ, স্বপ্নদোষ বা বয়স হিসাবে উহার যোগ্য না হয় ততদিন (ইয়াতিমদিগের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে)। অর্থাৎ, সাবালক হওয়ার পূর্বেই তাহাদের দ্বীনদারী এবং স্বীয় অবস্থা ও দায়িত্ব পরিচলানার বিষয়টি নিরীক্ষা করিবে। ইমাম শফিঈর অভিমত হইল, সাবালক হওয়ার বয়স হইল পনের বৎসর। (( তাফসীর ই জালালাইন; পৃষ্ঠা নং; ২৮৬ ))

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআনে বলা হয়েছে,
আর তোমরা এতিমদের কে পরীক্ষা করে নাও, এপর্যন্ত যে, যখন তারা বিবাহে [-র বয়সে] পৌঁছে যায়, অনন্তর যদি তাদের মধ্যে কিয়ৎ পরিমাণ বুদ্ধিমত্তা দেখ, তবে তাদের ধন- সম্পত্তি তাদেরকে সমর্পণ করে দাও, আর ঐ : সমস্ত সম্পত্তি ভক্ষণ করো না অপব্যায়ে এবং তাড়াতাড়ি করে এই ধারণায় যে, তারা বালেগ হয়ে যাবে। (( তাফসীরে আনওয়ারুল কুরআন; খন্ড; ১, পৃষ্ঠা; ৫৯৩ ))

তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়াতে বলা হয়েছে,
আয়াতে শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা ও যোগ্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বালেগ হওয়ার আগেই ছোট ছোট দায়িত্ব দিয়ে তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে থাক, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহের পর্যায়ে পৌছে অর্থাৎ বালেগ হয়। (( (4:6) An-Nisa | (৪:৬) আন-নিসা-অনুবাদ/তাফসীর (hadithbd.com) ))
তাফসীরে মা'আরেফুল কুরআনে বলা হয়েছে,
Once we know from verse 5 that minors should not be entrusted with properties until such time that their ability to discern and decide stands proved, the injunctions to educate and test such children to determine their ability follow in the next verse (6) Verse 6: وَابْتَلُوا الْيَتَامَىٰ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ translated as 'and test the orphans until they reach marriageable age;' means that children, well before they become pubert and marriageable, should be tested through small assignments of buying and selling in order to determine their ability to conduct themselves in transactions on their own. This process of practical experimentation should continue right through upto the age of marriage-ability, that is, when they become pubert and mature. This is the time of special assessment. Now it should be determined if they have become smart and self-reliant in their affairs. Once this is sensed as 'dependable', it is time to hand over their property to them............... In accordance with the other injunction, when children become mature, pubert and marriageable, the guardian should check up their state of growth at that stage in terms of experience, intelligence and dealings, and once it becomes clear that they understand their profit and loss and handle their affairs and dealings in a satisfactory manner, their property should be handed over to them. (( Surah An-Nisa - 1-176 - Quran.com ))
এই আয়াতের ব্যখ্যায় তাফসীরে তাবারীতে বলা হয়েছে,
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَ ابۡتَلُوا الۡیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّکَاحَ (তোমরা ইয়াতীমদেরকে যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের যোগ্য হয়।) ...... ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّکَاحَ এর ব্যখ্যায় বলেছেন যখন তাদের বিয়ের বয়স হয়। (( তাফসীরে তাবারী; খন্ড নং; ৭, পৃষ্ঠা নং; ৪৫ ))